২০ অগাস্ট, ২০২০ ০৭:৪৭ পিএম

হেলথ বুলেটিন চালুর পরামর্শ জাতীয় পরামর্শক কমিটির 

হেলথ বুলেটিন চালুর পরামর্শ জাতীয় পরামর্শক কমিটির 

মেডিভেয়েস রিপোর্ট: দেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় পুনরায় করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিন পুনরায় চালু করার পরামর্শ দিয়েছে করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। একই সথে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার ‍সুযোগ থাকার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ১৭তম অনলাইন সভায় এসব মতামত ব্যক্ত করেন কমিটির সদস্যরা। রাতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত লাইভ স্বাস্থ্য বুলেটিন আবার চালু রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এই সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে একবার গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকা উচিত বলেও মনে করে কমিটি।

জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। 

দেশে করোনার টিকার পক্ষে মত দিয়ে কমিটি বলে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে টিকার ট্রায়াল বাংলাদেশে হওয়া উচিত। বিশ্বের যে সব দেশ যেমন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া টিকার গবেষণায় এগিয়ে আছে, তাদের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অন্যান্য দেশও অংশগ্রহণ করছে। যেমন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল ব্রাজিল ও ভারতে হচ্ছে, চীনের সিনোভ্যাক টিকা ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, ফিলিপিন ও তুরস্কে হচ্ছে। বাংলাদেশে টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হলে, প্রথমত বাংলাদেশে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তা প্রমাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এই টিকা সফল প্রমাণিত হলে সর্বাগ্রে পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া থাকবে।

টিকা আন্তর্জাতিক বাজারে এসে গেলে তা কিভাবে প্রথমেই বাংলাদেশে নিয়ে আসা যায় তা বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনই করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে কি পরিমাণে টিকার প্রয়োজন, তা সংগ্রহে কত খরচ হবে কিংবা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে কিনা এ ব্যাপারে এখনই হিসাব করা প্রয়োজন। এখন থেকেই যে সব প্রতিষ্ঠান বা দেশ টিকার ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত যেন টিকা মানবদেহে প্রয়োগের অনুমতি পাওয়া মাত্রই বাংলাদেশ তা পেতে পারে। টিকা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন বা ক্রয় করার প্রস্তুতি থাকতে হবে বলে সে অনুযায়ী সরকারকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় কমিটি। 

সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত অর্থ পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে তারা। উপসর্গসহ সন্দেহভাজন করোনা রোগী বুথে এসে পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনামূল্যে এবং বাসায় স্বাস্থ্য কর্মী গিয়ে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০০ টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যর্মীদের বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন এবং তাদের পরিবার ও পরিজন করোনায় সংক্রণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি। 

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা সংক্রমনের শুরু থেকে দেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমে আইইডিসিআরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিং করেন। এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার সুযোগ পেলেও পরবর্তিতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আইইডিসিআরের পরিবর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিজেই এ তথ্য প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ ব্রিফিং করতেন। তবে গত ১২ আগস্ট থেকে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন হেলথ বুলেটিন প্রচার বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক